লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জ উপজেলার নোয়াগাঁও ইউনিয়নে পারিবারিক জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে দুই চাচার নির্মাণাধীন বসতঘরের দেয়াল ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে ভাতিজা ওমর ফারুক কাউসার (৪২)-এর বিরুদ্ধে। তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত কাউসার।
ঘটনাটি উপজেলার ২ নম্বর নোয়াগাঁও ইউনিয়নের সাউধেরখিল উদনপাড়া এলাকার বজলুর রহমান ভূইয়া বাড়িতে ঘটেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী মো. তোফাজ্জল হোসেন ভূইয়া (৭২) গত বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) রামগঞ্জ থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
অভিযোগকারী তোফাজ্জল হোসেন ভূইয়া বলেন, পারিবারিক বণ্টন অনুযায়ী তিনি ও তাঁর ভাই মো. সোলাইমান ভূইয়া (৭৫) দেড় শতাংশ করে মোট ৩ শতাংশ জমিতে বসতঘরের দেয়াল নির্মাণ করছিলেন। তাঁর অভিযোগ, বৃহস্পতিবার রাত আনুমানিক ২টার দিকে ভাতিজা ওমর ফারুক কাউসার কয়েকজন লোক নিয়ে এসে নির্মাণাধীন দেয়াল ভেঙে ফেলেন। একই সঙ্গে বাড়ির অন্য অংশীদারদের ঘরের দরজা বাইরে থেকে বন্ধ করে দেওয়া হয়, যাতে রাতে কেউ বাইরে বের হতে না পারেন।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, তাঁরা দুই ভাই দীর্ঘদিন ঢাকায় বসবাস করায় সেই সুযোগে ভাতিজা পারিবারিক পুকুরের অংশ ভরাট করে বরাদ্দের অতিরিক্ত প্রায় ৬ শতাংশ জমির ওপর ভবন নির্মাণ করেছেন।
অপর ভুক্তভোগী মো. সোলাইমান ভূইয়া বলেন, তাঁদের বাবা মরহুম বজলুর রহমান ভূইয়ার ছয় ছেলে। পারিবারিক আপস-মীমাংসার মাধ্যমে প্রত্যেক ভাই ৩ দশমিক ৬৪ শতাংশ করে জমি পান। বড় ভাইয়ের ছেলে ওমর ফারুক কাউসার সেখানে বসবাস করায় তাঁকে অতিরিক্ত প্রায় ৩ শতাংশ জায়গা দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু পরে তিনি পারিবারিক পুকুরের অংশ ভরাট করে প্রায় ৭ থেকে ৮ শতাংশ জমির ওপর ভবন নির্মাণ করেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।
সোলাইমান ভূইয়ার দাবি, ঘটনার রাতে তাঁরা বাড়িতে না থাকার সুযোগে কাউসারের ভাড়াটিয়া লোকজন তাঁদের নির্মাণাধীন দেয়াল ভেঙে ফেলেছে।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত ওমর ফারুক কাউসার বলেন, যে জমি নিয়ে বিরোধ সৃষ্টি হয়েছে, সেটি তাঁর ক্রয়কৃত সম্পত্তি। সেখানে আগে একটি টিনশেড ঘর ও পাকাঘর ছিল, যা তাঁর চাচারা ভেঙে ফেলেছেন বলে তিনি দাবি করেন।
তিনি আরও বলেন, বিরোধপূর্ণ জমিতে নির্মাণকাজ বন্ধ রাখতে আদালতে ১৪৪ ধারার আবেদন করেছেন। তবে রাতে দেয়াল ভাঙচুরের অভিযোগ অস্বীকার করে তিনি বলেন, “এ বিষয়ে আমি কিছু জানি না। পরে শুনেছি, ঘটনার দিন আমার চাচারা বাড়িতে ছিলেন না।”
রামগঞ্জ থানায় এ ঘটনায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।