লক্ষ্মীপুরের রায়পুর বর্ণমালা একাডেমিতে উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘দেশীয় ফল উৎসব’। দেশীয় ফলের পুষ্টিগুণ সম্পর্কে শিক্ষার্থীদের সচেতন করা এবং দেশের সংস্কৃতি, কৃষ্টি ও ঐতিহ্যের সঙ্গে নতুন প্রজন্মকে পরিচিত করাই ছিল এ আয়োজনের মূল উদ্দেশ্য।
মধুমাসের এই বর্ণিল আয়োজনকে ঘিরে রায়পুর মৎস্য প্রজনন ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের সামনে বর্ণমালা একাডেমির প্রাঙ্গণ দেশীয় ফলের এক প্রাণবন্ত প্রদর্শনীতে রূপ নেয়।
বিভিন্ন শ্রেণির শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে সাজানো স্টলগুলোতে আম, কাঁঠাল, লিচু, তরমুজ, আনারস, জাম, ডাব, কলা, জামরুল, তাল, সফেদা, লটকন, করমচা, পেঁপে, পেয়ারা, কামরাঙা, আমড়া, আমলকী, জাম্বুরা, ডেউয়া, খেজুর, গাব ও টেপাফলসহ অর্ধশতাধিক দেশীয় ফল এবং ফল থেকে তৈরি খাবার প্রদর্শিত হয়।
স্টলগুলোতে ফলের বাংলা ও ইংরেজি নামের পাশাপাশি পুষ্টিগুণ ও ভেষজ উপকারিতা সম্পর্কিত তথ্য উপস্থাপন করা হয়, যার মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা দেশীয় ফল সম্পর্কে বাস্তবভিত্তিক জ্ঞান অর্জনের সুযোগ পায়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রায়পুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মাজেদুল ইসলাম। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সরকারি হাসপাতালের শিশু বিশেষজ্ঞ ডাক্তার মামুনুর রশীদ পলাশ, রায়পুর প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক তাবারক হোসেন আজাদ, বণিক সমিতির সভাপতি সাইফুল ইসলাম মুরাদ, সাধারণ সম্পাদক আলমগীর হোসেন এবং প্রতিষ্ঠান পরিচালক ও প্রধান শিক্ষক জিয়াউল্লাহ মামুনসহ শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও কর্মচারীবৃন্দ।
অতিথিরা বিভিন্ন স্টল পরিদর্শন করেন এবং শিক্ষার্থীদের সঙ্গে দেশীয় ফলের পুষ্টিগুণ, ভেষজ উপকারিতা ও সংরক্ষণের গুরুত্ব নিয়ে মতবিনিময় করেন। এ সময় তারা শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন প্রশ্নের মাধ্যমে তাদের জ্ঞান যাচাই করেন এবং তাদের উৎসাহ ও সৃজনশীলতার প্রশংসা করেন।
প্রধান অতিথি বলেন, “দেশীয় ফল আমাদের ঐতিহ্যের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এসব ফল শুধু সুস্বাদুই নয়, বরং পুষ্টিগুণে ভরপুর এবং সুস্থ জীবন গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।”
উৎসবের অন্যতম আকর্ষণ ছিল শিক্ষার্থীদের মধ্যে ফল ভাগাভাগি করে খাওয়ার আয়োজন, যা পারস্পরিক সৌহার্দ্য, সম্প্রীতি ও বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করে।
প্রতিষ্ঠান পরিচালক ও প্রধান শিক্ষক জিয়াউল্লাহ মামুন জানান, দেশীয় ফলের পরিচিতি বৃদ্ধি, পুষ্টি সম্পর্কে সচেতনতা সৃষ্টি এবং বিলুপ্তপ্রায় ফল সংরক্ষণের বার্তা ছড়িয়ে দিতে এ আয়োজন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।