লক্ষ্মীপুরের রায়পুর উপজেলার দক্ষিণ চরবংশী ইউনিয়নে মাদকবিরোধী অবস্থানকে কেন্দ্র করে এক ছাত্রদল নেতার ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে। আহত ওই নেতা দাবি করেছেন, দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় মাদকবিরোধী কর্মকাণ্ড পরিচালনা করায় তাকে লক্ষ্য করে এ হামলা চালানো হয়েছে। তবে অভিযুক্তের পরিবার অভিযোগ অস্বীকার করে বলছে, তার ছেলে মাদকসংশ্লিষ্ট নন।
এ ঘটনায় দক্ষিণ চরবংশী ইউনিয়ন ছাত্রদলের সভাপতি আদনান হাবিব বাদী হয়ে আবু হুরাইরা সাজিদকে আসামি করে রায়পুর থানায় মামলা করেছেন। বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) মামলাটি দায়ের করা হয়। এর আগে বুধবার বিকেলে উপজেলার উত্তর চরবংশী ইউনিয়নের খাসেরহাট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে হামলার ঘটনাটি ঘটে।
মামলার এজাহার অনুযায়ী, আদনান হাবিব দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় মাদকবিরোধী বিভিন্ন সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছেন। তার দাবি, কয়েকজন মাদক কারবারিকে তিনি মাদকসহ পুলিশের হাতে তুলে দিয়েছেন। এ কারণে স্থানীয় কিছু মাদকসংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরাগভাজন হয়ে ওঠেন তিনি।
এজাহারে আরও বলা হয়েছে, আবু হুরাইরা সাজিদ মাদকসেবন ও মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। এ কারণে তাকে একাধিকবার সতর্ক করা হয়েছিল। ৫ আগস্ট দক্ষিণ চরবংশী ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডে মাদক সেবনের সময় স্থানীয়দের হাতে সাজিদ আটক হওয়ার পর তিনি ক্ষুব্ধ হয়ে আদনান হাবিবের বাড়িতে গিয়ে হুমকি দেন। পরদিন বিকেলে আদনান হাবিব বাড়ি থেকে রায়পুরে যাওয়ার পথে খাসেরহাট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে সাজিদ ও তার সহযোগীরা তার ওপর হামলা চালান। হামলার সময় লোহার রডের আঘাতে তার মাথা ফেটে যায় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
ঘটনার বিষয়ে জানতে অভিযুক্ত সাজিদের বাড়িতে গেলে তাকে পাওয়া যায়নি। তার বাবা মিজান হাওলাদার বলেন, তার ছেলে কোনো ধরনের মাদকসংশ্লিষ্ট কর্মকাণ্ডে জড়িত নন। স্থানীয়দের হাতে আটক হওয়ার অভিযোগও তিনি নাকচ করেন।
তবে স্থানীয় বাসিন্দা হৃদয় নামে এক ব্যক্তি বলেন, দক্ষিণ চরবংশী ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডে বছির মেম্বারের বাড়ির সামনে মাদক সেবনের অভিযোগে স্থানীয়রা সাজিদকে আটক করেছিলেন।
উপজেলা ছাত্রদলের সভাপতি মাহফুজুর রহমান হৃদয় বলেন, আদনান হাবিব দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় মাদকের বিরুদ্ধে কাজ করছেন। সে কারণেই তার ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে বলে তাদের ধারণা। তিনি ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত এবং দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।
রায়পুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নিজাম উদ্দিন ভূঁইয়া বলেন, ছাত্রদল নেতা আদনান হাবিবের দায়ের করা মামলাটি গ্রহণ করা হয়েছে। অভিযোগ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ ঘটনাকে ঘিরে এলাকায় মাদকবিরোধী কার্যক্রমের নিরাপত্তা এবং স্থানীয় পর্যায়ে মাদক নিয়ন্ত্রণে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ভূমিকা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। তবে হামলার অভিযোগের সত্যতা এবং হামলার পেছনের কারণ সম্পর্কে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত তদন্ত শেষ হওয়ার পরই জানা যাবে।