লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে মেঘনা নদীসংলগ্ন চরকাচিয়া গ্রামের খেয়াঘাট এলাকায় মানুষের চলাচলের জন্য নির্মিত কাঠের সাঁকো রাতের আঁধারে কেটে ও ভেঙে দিয়েছে দুর্বৃত্তরা। এতে কয়েক হাজার কৃষক, দিনমজুর ও স্থানীয় বাসিন্দার চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। চরম দুর্ভোগে পড়েছেন চরাঞ্চলের বাসিন্দা, মোটরসাইকেল, মিশুক ও অটোরিকশাচালকসহ পথচারীরা।
সোমবার (৩১ আগস্ট) রাতে উপজেলার উত্তর চরবংশী ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের বিল্লাল বেপারী খেয়াঘাট এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয়রা জানান, উত্তর চরবংশী ইউনিয়নের হাজিমারা আশ্রয়কেন্দ্রের ওপর দিয়ে বরিশালের মেহেন্দিগঞ্জ যাওয়ার পথে চার গ্রামের মানুষের চলাচলের সুবিধার জন্য নিজেদের অর্থ ও শ্রমে কাঠের সাঁকোটি নির্মাণ করা হয়। সম্প্রতি সাঁকোটির মাঝখানের বেশ কয়েকটি অংশ কেটে ও ভেঙে দেওয়া হয়েছে। কোথাও কোথাও বিচ্ছিন্ন কাঠের অংশ পানিতে ভাসতেও দেখা গেছে। এতে সাঁকোটির ওপর দিয়ে স্বাভাবিকভাবে মানুষ ও যানবাহন চলাচল করতে পারছে না।
সাঁকোটির অন্যতম উদ্যোক্তা সোহেলসহ কয়েকজন গ্রামবাসী বলেন, “আমরা ভাষা হারিয়ে ফেলেছি, কী বলব তা খুঁজে পাচ্ছি না। হাজারো কৃষক ও গ্রামবাসীর চলাচলের সুবিধার জন্য নিজেদের টাকা ও শ্রম দিয়ে সাঁকোটি তৈরি করেছিলাম। কিন্তু কে বা কারা রাতের আঁধারে এমন ক্ষতি করেছে, বুঝতে পারছি না।”
তাঁরা আরও বলেন, সাঁকোটি নষ্ট হওয়ায় গত চার দিন ধরে খেয়াঘাট এলাকায় মানুষের পারাপারে চরম দুর্ভোগ সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে অসুস্থ রোগী, শিশু, নারী ও বয়স্কদের চলাচলে সমস্যা হচ্ছে। সাঁকোটি নষ্ট করার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানান তাঁরা।
রায়পুরের সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও উত্তর চরবংশী ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসক নিগার সুলতানা বলেন, “এ বিষয়ে আমার জানা নেই। খোঁজখবর নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”