লক্ষ্মীপুরের রায়পুর উপজেলার দক্ষিণ চরবংশী ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) সচিব আফসার উদ্দিনকে দুই দিনে দুই দফা বদলি করা হয়েছে। মঙ্গলবার তাকে রায়পুরের ৮ নম্বর দক্ষিণ চরবংশী ইউনিয়ন পরিষদ থেকে কমলনগর উপজেলার চর ফলকন ইউনিয়ন পরিষদে বদলি করা হয়। এর দুই দিন পর বৃহস্পতিবার তাকে রামগঞ্জ উপজেলার ১ নম্বর কাঞ্চনপুর ইউনিয়ন পরিষদে বদলি করা হয়েছে।
আফসার উদ্দিনের বিরুদ্ধে বিভিন্ন সরকারি সেবায় কমিশন নেওয়া, জন্মনিবন্ধনে অতিরিক্ত টাকা আদায়সহ নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে। এসব অভিযোগ নিয়ে কয়েকটি গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হয়। এ ছাড়া ‘কমিশনের ফাঁদে অতিষ্ঠ রায়পুরের চরবংশী ইউনিয়ন পরিষদের বাসিন্দারা’ শিরোনামে তিন মিনিট ৩৩ সেকেন্ডের একটি ভিডিও প্রতিবেদনও প্রকাশিত হয়।
সংবাদ প্রকাশের পর উপজেলা প্রশাসন অভিযোগগুলোর বিষয়ে তদন্ত শুরু করে। তদন্ত চলমান থাকার মধ্যেই তাকে বদলি করা হলো।
রায়পুরে ইউপি সচিবের বিরুদ্ধে উন্নয়ন প্রকল্পে কমিশন নেওয়ার অভিযোগ
সংবাদ প্রকাশের পর রায়পুরের সেই ইউপি সচিবকে বদলি
স্থানীয় সরকার শাখার সহকারী কমিশনার মিজানুর রহমানের সই করা অফিস আদেশে বৃহস্পতিবারের বদলির বিষয়টি জানানো হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সহকারী কমিশনার মিজানুর রহমান।
অভিযোগকারী স্থানীয় বাসিন্দা ও ইউপি সদস্যদের ভাষ্য, বিভিন্ন সেবা নিতে গিয়ে সচিবকে কমিশন দিতে হতো। জন্মনিবন্ধন করতেও অতিরিক্ত টাকা নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। এ ছাড়া ‘শূন্য বয়সের বাচ্চা’ দেখিয়ে জন্মনিবন্ধন করানো, মাতৃত্বকালীন ভাতা, জেলেদের বরাদ্দের চাল, গ্রাম পুলিশের ট্যাক্স, ইউপি সদস্যদের সম্মানী এবং সরকারি বরাদ্দের অর্থের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত টাকা বা কমিশন নেওয়ার অভিযোগ করেন তারা।
দক্ষিণ চরবংশী ইউনিয়ন পরিষদের ইউপি সদস্য আবুল হাসেম বলেন, তাদের অভিযোগের ভিত্তিতে লক্ষ্মীপুর টিভিসহ কয়েকটি গণমাধ্যমে দুই দফা সংবাদ প্রকাশের পর সচিবকে কমলনগরে বদলি করা হয়েছে। তবে বদলি হলেও অভিযোগের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট টাকার বিষয়ে এখনো কোনো সমাধান হয়নি বলে জানান তিনি।
মহিলা ইউপি সদস্য ফাতেমা বেগম বলেন, সচিব আফসার উদ্দিনের বদলিতে তারা ও স্থানীয় বাসিন্দারা খুশি। এ জন্য প্রশাসনকে ধন্যবাদ জানান তিনি।
দক্ষিণ চরবংশী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবু জাফর মো. সালেহ বলেন, কীভাবে সচিবের বদলি হয়েছে, তা তার জানা নেই। তবে তার বিরুদ্ধে কিছু অভিযোগ ছিল। সেসব অভিযোগের তদন্ত চলছে।
এ বিষয়ে স্থানীয় সরকার শাখার সহকারী কমিশনার মিজানুর রহমান লক্ষ্মীপুর টিভিকে বলেন, “এটা অফিসিয়াল প্রসিডিউরের অংশ। মাঝে মাঝে জনস্বার্থে আমরা এ ধরনের বদলি করে থাকি।”
আফসার উদ্দিনের বিরুদ্ধে অভিযোগের তদন্ত চলমান থাকা অবস্থায় বদলির বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “হ্যাঁ, আমরা প্রয়োজন অনুযায়ী জনস্বার্থে বদলি করেছি।”