মা ইলিশ রক্ষায় মেঘনা নদীতে ২২ দিনের মাছ ধরার নিষেধাজ্ঞা চলছে। তবে নিষেধাজ্ঞার ১১ দিন পার হতে চললেও লক্ষ্মীপুরের রায়পুর উপজেলার উত্তর চরবংশী ও দক্ষিণ চরবংশী ইউনিয়নের ৫ হাজার ৯৮২ জন জেলে এখনো সরকারি খাদ্যসহায়তা পাননি। দুই ইউনিয়নে প্রশাসক না থাকায় চাল বিতরণে জটিলতা তৈরি হয়েছে বলে জানিয়েছে উপজেলা প্রশাসন। এতে বিপাকে পড়েছেন কর্মহীন জেলে পরিবারগুলো।
জেলা মৎস্য বিভাগ জানিয়েছে, জেলেদের জন্য বরাদ্দ করা চাল ইউনিয়নগুলোতে পাঠানো হয়েছে। পর্যায়ক্রমে তা বিতরণ করা হবে। তবে কবে নাগাদ সহায়তা পাবেন, তা নিয়ে অনিশ্চয়তায় রয়েছেন সংশ্লিষ্ট জেলেরা।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গত ৬ অক্টোবর উত্তর চরবংশী ইউনিয়নের প্রশাসক ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) নিগার সুলতানাকে চাঁদপুর সদরে বদলি করা হয়। অন্যদিকে দক্ষিণ চরবংশী ইউনিয়নের চেয়ারম্যানের মৃত্যু হওয়ায় সেখানেও প্রশাসনিক জটিলতা তৈরি হয়েছে। বিষয়টি জেলা প্রশাসককে জানানো হয়েছে।
চরবংশী খাসেরহাট এলাকার জেলে হাসিম মাঝি, হামিদ, সরব আলী ও খলিল সৈয়ালসহ কয়েকজন জানান, তাঁরা এখনো সরকারি খাদ্যসহায়তা পাননি। জেলেদের তালিকা নিয়েও তাঁদের অভিযোগ রয়েছে। তাঁদের দাবি, অনেক জেলে দীর্ঘ ২০ বছরেও কোনো সরকারি সহায়তা পাননি।
জেলেরা বলেন, মাছ ধরা বন্ধ থাকায় তাঁদের আয়-রোজগার বন্ধ হয়ে গেছে। সংসারের খরচ মেটানোর পাশাপাশি ঋণের কিস্তি পরিশোধ করাও কঠিন হয়ে পড়েছে। সরকারিভাবে যে চাল দেওয়া হয়, তা প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল। তাই চালের পাশাপাশি আর্থিক সহায়তা দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।
মৎস্য বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, গত ৮ অক্টোবর মধ্যরাত থেকে আগামী ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত মা ইলিশ সংরক্ষণ অভিযান চলবে। এ সময় ইলিশ আহরণ, পরিবহন, বাজারজাতকরণ, বিক্রি ও মজুত নিষিদ্ধ। রামগতির আলেকজান্ডার থেকে চাঁদপুরের ষাটনল পর্যন্ত মেঘনা নদীর প্রায় ১০০ কিলোমিটার এলাকায় এ নিষেধাজ্ঞা কার্যকর রয়েছে।
নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নে নদী ও উপকূলীয় এলাকায় মাইকিং, পোস্টারিংসহ প্রচার-প্রচারণা চালানো হচ্ছে। পাশাপাশি মৎস্য বিভাগ, উপজেলা ও জেলা প্রশাসন, পুলিশ এবং কোস্ট গার্ডের সমন্বয়ে অভিযান পরিচালনার কথা জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
লক্ষ্মীপুরের পাঁচ উপজেলায় প্রায় ৫৪ হাজার নিবন্ধিত জেলে রয়েছেন। তাঁদের মধ্যে ৪২ হাজার ১৫০টি জেলে পরিবারকে ভিজিএফ কর্মসূচির আওতায় ২৫ কেজি করে চাল দেওয়ার বরাদ্দ রয়েছে। মোট বরাদ্দ প্রায় ১ হাজার ৫৩ টন। বরাদ্দের সীমাবদ্ধতায় বাকি ১১ হাজার ৮৫০ জন জেলে এ সহায়তার বাইরে রয়েছেন।
লক্ষ্মীপুর জেলা মৎস্য কর্মকর্তা জসিম উদ্দিন বলেন, নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নে প্রতিদিন অভিযান পরিচালনা করা হবে। আইন অমান্য করে নদীতে মাছ ধরতে গেলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
খাদ্যসহায়তা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, শিগগিরই চাল বিতরণ করা হবে। এ ছাড়া আরও বরাদ্দ চাওয়া হয়েছে। বরাদ্দ পাওয়া গেলে বাদ পড়া জেলেদের মধ্যে তা বিতরণের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
রায়পুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আজিজুন নাহার বলেন, উত্তর চরবংশী ও দক্ষিণ চরবংশী ইউনিয়নে প্রশাসক না থাকায় ৫ হাজার ৯৮২ জন জেলের চাল বিতরণে জটিলতা দেখা দিয়েছে। বিষয়টি জেলা প্রশাসকসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে লিখিতভাবে জানানো হয়েছে।