৪০ বছর ৬ মাসের দীর্ঘ শিক্ষকতা জীবনের ইতি টানলেন এম হাবিব উল্যাহ বাহার। ৬২ বছর বয়সী এই মাদরাসা শিক্ষক কর্মজীবনের শুরুতে যে স্বপ্ন দেখেছিলেন, নিজের হাতে প্রতিষ্ঠান গড়ে সেই স্বপ্ন পূরণ করেছেন। আর পেশাগত জীবনের শেষ দিনটিও কাটিয়েছেন নিজের প্রতিষ্ঠিত মাদরাসাতেই। বিদায়টাও পেয়েছেন রাজকীয় আয়োজনে। সোমবার (৩১ আগস্ট) দুপুরে লক্ষ্মীপুরের কমলনগর উপজেলার চরফলকন ছিদ্দিকিয়া দাখিল মাদরাসায় তাকে দেওয়া হয় বর্ণাঢ্য বিদায় সংবর্ধনা। এম হাবিব উল্যাহ বাহার মাদরাসাটির প্রতিষ্ঠাতা ও সুপার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। ১৯৮৪ সালে তিনি প্রতিষ্ঠানটি প্রতিষ্ঠা করেন। বিদায় অনুষ্ঠানে তাকে ফুল, ক্রেস্ট ও বিভিন্ন উপহার দিয়ে সম্মান জানানো হয়। পরে ফুলে সজ্জিত গাড়িতে করে তাকে বাড়িতে পৌঁছে দেন শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা। চরফলকন ছিদ্দিকিয়া দাখিল মাদরাসা পরিচালনা কমিটির সভাপতি সিরাজুল ইসলাম শওকত হাওলাদারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন কমলনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রাহাত উজ জামান। বিশেষ অতিথি ছিলেন হাজিরহাট হামিদিয়া কামিল মাদরাসার সাবেক অধ্যক্ষ জায়েদ হোসাইন আল ফারুকী, সানম্যান গ্রুপের ভাইস চেয়ারম্যান তাসফিক মান্নান, হাজিরহাট হামিদিয়া কামিল মাদরাসার অধ্যক্ষ দেলোয়ার হোসেন, লক্ষ্মীপুর ন্যাশনাল আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজের উপাধ্যক্ষ হাবিবুর রহমান সবুজ, জামায়াতের কমলনগর উপজেলা আমির আবুল খায়ের, ম্যানেজিং কমিটির সদস্য ছিদ্দিক উল্লাহ, চরফলকন ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবদুর রহিম ও সমাজসেবক আক্তার মাহমুদসহ অনেকে। বিদায় সংবর্ধনায় নিজের দীর্ঘ পেশাজীবনের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন এম হাবিব উল্যাহ বাহার। তিনি বলেন, ‘মাদরাসাটি নিজ হাতে গড়ে তুলেছি। আজ স্বপ্নের প্রতিষ্ঠানটি ছেড়ে যাচ্ছি। প্রতিষ্ঠানটির প্রতি মায়া জমে গেছে। এ মায়া কখনো শেষ হবে না। সবাই আমার জন্য দোয়া করবেন।’