প্রকাশ : ... | ... | ...

৩ দিনের ছুটি নিয়ে ৪ বছর যুক্তরাষ্ট্রে সরকারি মার্চেন্টস একাডেমির প্রধান শিক্ষক


সংযুক্ত ছবি

লক্ষ্মীপুরের রায়পুর সরকারি মার্চেন্টস একাডেমির প্রধান শিক্ষক মো. জিল্লুর রহমান মাত্র তিন দিনের ছুটি নিয়ে প্রায় চার বছর ধরে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। দীর্ঘদিন ধরে প্রধান শিক্ষক অনুপস্থিত থাকায় বিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কার্যক্রম ও পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষক ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিদেশ ভ্রমণের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমতি নেওয়ার বিধান রয়েছে। তবে জিল্লুর রহমান সেই নিয়ম অনুসরণ না করেই বিদেশে গেছেন বলে জানা গেছে। এ ঘটনায় তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য ২০২২ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর তৎকালীন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও বিদ্যালয়ের সাবেক সভাপতি অঞ্জন দাশ জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরে চিঠি দেন। বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, জিল্লুর রহমান ২০২২ সালের ২২ আগস্ট বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে মাত্র তিন দিনের ছুটি নেন। পরদিন, ২৩ আগস্ট তিনি যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশে দেশ ত্যাগ করেন। এরপর থেকে তিনি আর বিদ্যালয়ে ফেরেননি। এভাবে তিন দিনের ছুটি নিয়ে টানা প্রায় চার বছর তিনি কর্মস্থলে অনুপস্থিত রয়েছেন। তবে এর আগেও তাঁর বিদেশে যাওয়ার নজির রয়েছে। ২০২১ সালের ১৯ ডিসেম্বর তিনি প্রথমবারের মতো যুক্তরাষ্ট্রে যান এবং প্রায় পাঁচ মাস পর দেশে ফেরেন। ওই সময় তিনি বিদ্যালয় থেকে দুই মাসের ছুটি নিয়েছিলেন। তবে বিদেশে যাওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমতি নেননি বলে অভিযোগ রয়েছে। দেশে ফিরে তিনি সরকারি বেতন-ভাতাও উত্তোলন করেন। উল্লেখ্য, রায়পুর শহরে থানার পেছনে অবস্থিত সরকারি মার্চেন্টস একাডেমি ২০১৭ সালের ১৯ মার্চ জাতীয়করণ করা হয়। বর্তমানে বিদ্যালয়টিতে প্রায় এক হাজার শিক্ষার্থী অধ্যয়ন করছে। অভিভাবক মো. আলাউদ্দিন বলেন, পাঁচ বছর আগেও এসএসসি পরীক্ষায় বিদ্যালয়টির ফলাফল ভালো ছিল। সে সময় সন্তানকে এ বিদ্যালয়ে ভর্তি করানো নিয়ে অভিভাবকদের মধ্যে আগ্রহ ও প্রতিযোগিতা ছিল। কিন্তু কয়েক বছর ধরে আশানুরূপ ফলাফল না হওয়ায় বিদ্যালয়ের শিক্ষার মান ও সার্বিক পরিবেশ নিয়ে অভিভাবকদের মধ্যে হতাশা তৈরি হয়েছে। বিদ্যালয়ের দুই শিক্ষক নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, প্রধান শিক্ষক দীর্ঘদিন অনুপস্থিত থাকায় বিদ্যালয় পরিচালনায় নানা সংকট তৈরি হয়েছে। তাঁর অনুপস্থিতিতে প্রশাসনিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। প্রধান শিক্ষক নিজেই নিয়মনীতি না মানায় অন্য শিক্ষক-কর্মচারীদের মধ্যেও দায়িত্ব পালনে অনীহা তৈরি হচ্ছে। দীর্ঘমেয়াদি এ অনুপস্থিতি প্রতিষ্ঠানের জন্য কোনোভাবেই ইতিবাচক নয়। অভিযোগের বিষয়ে জানতে সোমবার (১৭ আগস্ট) রাতে মো. জিল্লুর রহমানের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। হোয়াটসঅ্যাপ ও মেসেঞ্জারেও বার্তা পাঠানো হলেও তিনি কোনো উত্তর দেননি। ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মোস্তফা ফারুকী বলেন, 'আমরা প্রধান শিক্ষকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও সফল হইনি। তিনি কবে প্রতিষ্ঠানে যোগ দেবেন, সে বিষয়ে কোনো নিশ্চয়তা নেই। ফলে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। তবে এখনো তাঁর পদটি শূন্য ঘোষণা করা হয়নি।' এ বিষয়ে রায়পুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মেহেদী হাসান কাউসার বলেন, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিদেশ যেতে হলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিতে হয়। কিন্তু প্রধান শিক্ষক জিল্লুর রহমান বিদেশ যাওয়ার ক্ষেত্রে কোনো অনুমতি নেননি। বিষয়টি জেলা প্রশাসককে অবহিত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য চিঠি দেওয়া হয়েছে। কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুযায়ী তাঁর বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।