টানা বর্ষণ ও সড়ক সংস্কারকাজে কংকর ফেলে রেখে দীর্ঘদিন কাজ বন্ধ থাকায় লক্ষ্মীপুরের রায়পুর উপজেলার চর আবাবিল ইউনিয়নের ঝাউডগী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী এবং স্থানীয় গ্রামবাসী চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। প্রায় এক মাস আগে রাস্তার মাটি কেটে কিছু বালু ফেলার পর থেকে দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি না থাকায় বিদ্যালয়ে যাতায়াতে ভোগান্তি বেড়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, রায়পুর-হায়দরগঞ্জ আঞ্চলিক সড়কের হাজুমোল্লার স্টেশন থেকে ঝাউডগী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে যাওয়ার এটিই একমাত্র সংযোগ সড়ক। রাস্তার মাঝখানে মাটি কেটে রেখে প্রায় এক মাস ধরে নির্মাণকাজ বন্ধ থাকায় প্রতিদিন শিক্ষক, প্রায় ২০০ শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষ ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছেন। তাদের দাবি, প্রায় ৮০ লাখ টাকা ব্যয়ে সড়কটির সংস্কারকাজ শুরু হলেও গত ছয় দিনের টানা বৃষ্টিতে পুরো রাস্তা কাদাময় হয়ে পড়েছে। এতে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে যাতায়াত অত্যন্ত কষ্টকর হয়ে উঠেছে। প্রায় প্রতিদিনই কেউ না কেউ পিছলে পড়ে আহত হচ্ছে। রায়পুর উপজেলা এলজিইডির প্রকৌশলী সুমন মুন্সী বলেন, "এখন বর্ষার মৌসুম। বৃষ্টির কারণে রাস্তায় পানি জমে থাকায় কাজ করতে কিছুটা সমস্যা হচ্ছে। ঠিকাদারকে দ্রুত পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আমরা দ্রুত কাজ শেষ করার চেষ্টা করছি।" ঝাউডগী সড়কের কাজের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান গুলজার ট্রেডার্সের মালিক মো. গুলজার বলেন, কাজটি সাব-কন্ট্রাক্টের মাধ্যমে ঠিকাদার ওহিদ উল্যাহ পরিচালনা করছেন। এ বিষয়ে ওহিদ উল্যাহর সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ না করায় তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। ঝাউডগী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অ্যাডহক কমিটির আহ্বায়ক ও সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা কামরুল হাসান বলেন, "দ্রুত সড়ক নির্মাণকাজ সম্পন্ন করে শিক্ষার্থী ও এলাকাবাসীর দুর্ভোগ লাঘবে এলজিইডির কার্যকর হস্তক্ষেপ প্রয়োজন। দ্রুত কাজ শেষ করে সড়কটি চলাচলের উপযোগী করা হলে কোমলমতি শিক্ষার্থীসহ সাধারণ মানুষের ভোগান্তির অবসান হবে।"