প্রকাশ : ... | ... | ...

২৬ বছরেও বেহাল লক্ষ্মীপুর বাস টার্মিনাল, কাদা-পানি ও গর্তে চরম দুর্ভোগ


সংযুক্ত ছবি

লক্ষ্মীপুর জেলা বাস টার্মিনাল থেকে প্রতিদিন ঢাকা, চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন গন্তব্যে শত শত বাস চলাচল করে। অথচ সামান্য বৃষ্টিতেই টার্মিনালের বিভিন্ন স্থানে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হওয়ায় চরম দুর্ভোগে পড়ছেন যাত্রী, চালক, পরিবহনশ্রমিক, পথচারী ও আশপাশের ব্যবসায়ীরা। সরেজমিনে দেখা গেছে, রায়পুর-লক্ষ্মীপুর আঞ্চলিক মহাসড়কসংলগ্ন বাস টার্মিনাল এলাকায় অসংখ্য ছোট-বড় গর্ত তৈরি হয়েছে। বৃষ্টির পানি জমে অনেক স্থানে ছোট ছোট জলাশয়ের সৃষ্টি হয়েছে। কাদা-পানিতে গর্তগুলো ঢেকে যাওয়ায় কোনটি রাস্তা আর কোনটি গর্ত—তা বোঝাই কঠিন হয়ে পড়েছে। বাস চলাচলের সময় কাদা-পানি ছিটকে যাত্রীদের গায়ে পড়ছে। অনেক যাত্রীকে জুতা হাতে নিয়ে কাদা মাড়িয়ে বাসে উঠতে দেখা গেছে। সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে নারী, শিশু ও বয়স্ক যাত্রীদের। অন্যদিকে ভারী যানবাহনের চাপে টার্মিনালের গর্তগুলো দিন দিন আরও বড় হচ্ছে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, এ টার্মিনাল থেকে জেলার ছয়টি উপজেলা ছাড়াও ঢাকা, চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন রুটে প্রতিদিন প্রায় ২০০টি বাস চলাচল করে। প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক যাত্রী টার্মিনালটি ব্যবহার করলেও দীর্ঘদিন ধরে বড় ধরনের কোনো সংস্কারকাজ হয়নি। ঢাকাগামী যাত্রী মো. কামরুল হাসান বলেন, “জেলার প্রধান বাস টার্মিনালের এমন বেহাল অবস্থা খুবই হতাশাজনক। বৃষ্টি হলেই কাদা-পানি মাড়িয়ে বাসে উঠতে হয়। এতে নারী, শিশু ও বয়স্ক যাত্রীরা সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েন।” বাসচালক আমির হোসেন বলেন, “বড় বড় গর্তের কারণে বাস চালানো ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। বৃষ্টির সময় অনেক জায়গায় গাড়ির চাকা গর্তে বসে যায়। এতে দুর্ঘটনার আশঙ্কা বাড়ছে, পাশাপাশি বাসের বিভিন্ন যন্ত্রাংশও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।” টার্মিনালসংলগ্ন ব্যবসায়ী শাওন বলেন, “পানি জমে থাকলে যাত্রীরা দোকানে আসেন না। এতে প্রতিদিন লোকসান গুনতে হচ্ছে। বহুবার সংস্কারের দাবি জানানো হলেও এখনো দৃশ্যমান কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।” স্থানীয়দের অভিযোগ, শুধু টার্মিনালের অভ্যন্তরীণ সড়কই নয়, পুরো অবকাঠামোই জরাজীর্ণ হয়ে পড়েছে। ১৯৯৬ সালে প্রতিষ্ঠিত বাস টার্মিনালটিতে ২০০৮ সালে একটি ভবন নির্মাণ করা হলেও বর্তমানে সেটিও বেহাল অবস্থায় রয়েছে। এ বিষয়ে লক্ষ্মীপুর পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী মো. জুলফিকার হোসেন বলেন, “টার্মিনালের অভ্যন্তরীণ সড়ক সংস্কারের জন্য বরাদ্দ চেয়ে আবেদন পাঠানো হয়েছে। বরাদ্দ পাওয়া গেলে দ্রুত সংস্কারকাজ শুরু করা হবে।” তবে স্থানীয়দের দাবি, উন্নয়ন প্রকল্পের আশ্বাস তারা বহুবার শুনেছেন। এবার প্রতিশ্রুতি নয়, দ্রুত সংস্কারকাজের বাস্তবায়ন দেখতে চান তারা। তাদের মতে, জেলার অন্যতম প্রধান প্রবেশদ্বার হিসেবে পরিচিত লক্ষ্মীপুর বাস টার্মিনালের এই বেহাল চিত্র শুধু যাত্রীদের দুর্ভোগই বাড়াচ্ছে না, জেলার ভাবমূর্তিও ক্ষুণ্ন করছে।