প্রকাশ : ... | ... | ...

১৫ দিনেও উদঘাটন হয়নি রায়পুরের নৃশংস পাঁচ হত্যার রহস্য


সংযুক্ত ছবি

লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে একই পরিবারের মা ও তিন মেয়েকে নৃশংসভাবে হত্যার পাশাপাশি গণপিটুনিতে নিহত অভিযুক্ত অন্তর মজুমদারের মৃত্যুর রহস্যও ১৫ দিন পরেও উদঘাটন হয়নি। গত ২৫ জুন রায়পুর পৌর শহরের ধানহাটা ডাকাতিয়া নদীর পাড় এলাকার একটি ভাড়া বাসা থেকে মা ও তিন মেয়ের রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। একই ঘটনায় গণপিটুনিতে আহত অন্তর মজুমদার হাসপাতালে নেওয়ার পথে মারা যান। তবে তদন্ত সংশ্লিষ্টরা এখনও ঘটনার পূর্ণ রহস্য উদঘাটনের বিষয়ে স্পষ্ট কোনো তথ্য জানাতে পারেননি। নিহতরা হলেন গৃহবধূ শাহিনুর বেগম (৩৮) এবং তাঁর তিন মেয়ে সাইমা আক্তার (২০), নাফিসা আক্তার ইকরা (১৭) ও ফাতেমা আক্তার সিপা (৯)। তাঁদের বাড়ি কুমিল্লার হোমনা উপজেলার লটিয়া গ্রামে। পরিবারটির কর্তা দিনমজুর কামাল হোসেন ২০১৯ সালে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মারা যান। ২৬ জুন রাতে গ্রামের সামাজিক কবরস্থানে মা ও তিন মেয়েকে দাফন করা হয়। বর্তমানে পরিবারের একমাত্র জীবিত সদস্য কলেজপড়ুয়া ছেলে জুনায়েদ ইসলাম সিফাত। গণপিটুনিতে নিহত অন্তর মজুমদার (৩০) নোয়াখালীর সুবর্ণচর উপজেলার চর ফজলুল করিম গ্রামের সুজিৎ মজুমদার ও আম্পরি মজুমদারের ছেলে। তাঁর চাচাতো ভাই টিটু মজুমদার জানান, বিভিন্ন সময় কয়েকজন তরুণীর সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগে অন্তর পরিবার ও গ্রাম থেকে বিতাড়িত ছিলেন। তিনি ইসকনের সদস্য এবং বিবাহিত ছিলেন বলেও দাবি করেন। পুলিশ ও স্বজনদের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রায় ২৫ বছর আগে কামাল হোসেন পরিবার নিয়ে রায়পুর পৌরসভার ধানহাটা এলাকায় একটি ভাড়া বাসায় বসবাস শুরু করেন। স্বামীর মৃত্যুর পর শাহিনুর বেগম তিন মেয়ে ও এক ছেলেকে নিয়ে সেখানেই বসবাস করছিলেন। অভিযুক্ত অন্তর মজুমদার একই ভবনের চতুর্থ তলায় মুসলিম পরিচয়ে এক নারীকে নিয়ে ভাড়া থাকতেন। তাঁর আচরণ নিয়ে অভিযোগ থাকায় ২০২৫ সালের মার্চ মাসে বাড়ির মালিক তাঁকে বাসা ছাড়তে বলেন। গত ২৫ জুন সকাল ৯টার দিকে অন্তর শাহিনুর বেগমের বাসায় ঢুকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে শাহিনুর, সাইমা, ইকরা ও সিপাকে নৃশংসভাবে কুপিয়ে হত্যা করেন বলে অভিযোগ। এ সময় এক নারী বিষয়টি টের পেয়ে বাইরে থেকে বাসার দরজা আটকে দেন। পরে অন্তর ভবনের ছাদ দিয়ে পালানোর চেষ্টা করলে স্থানীয় লোকজন তাঁকে আটক করে গণপিটুনি দেয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে অন্তরকে উদ্ধার করার চেষ্টা করলে বিক্ষুব্ধ জনতার হামলায় সাত পুলিশ সদস্য আহত হন। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে নেওয়ার পথে অন্তরের মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় নিহতদের ছেলে জুনায়েদ ইসলাম সিফাত বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। অন্যদিকে, অন্তর মজুমদারের গণপিটুনিতে মৃত্যু এবং তাঁকে উদ্ধার করতে গিয়ে সাত পুলিশ সদস্য আহত হওয়ার ঘটনায় এসআই আমিনুল ইসলাম বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে আরও একটি হত্যা মামলা করেন। দুটি মামলারই তদন্ত করছেন রায়পুর থানার ওসি (তদন্ত) মো. আবদুল মান্নান। ঘটনার পর লক্ষ্মীপুর-২ (রায়পুর) আসনের সংসদ সদস্য আবুল খায়ের ভুঁইয়া এবং চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি মনিরুজ্জামান ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। আলোচিত এ হত্যাকাণ্ডের তদন্ত করছে পুলিশ, সিআইডি ও র‍্যাব। এছাড়া সম্প্রতি জেলা প্রশাসন নিহতদের পরিবারের একমাত্র জীবিত সদস্য জুনায়েদ ইসলাম সিফাতের হাতে এক লাখ টাকার আর্থিক সহায়তা তুলে দেয়। এদিকে, হত্যাকাণ্ডের তিন দিনের মাথায় রায়পুর থানার তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহীন মিয়াকে প্রত্যাহার করে জেলা পুলিশ লাইন্সে সংযুক্ত করা হয়। তদন্তকারী কর্মকর্তা ওসি (তদন্ত) মো. আবদুল মান্নান বলেন, "দুটি স্পর্শকাতর হত্যা মামলার তদন্ত চলছে। তদন্তের স্বার্থে এই মুহূর্তে এর বেশি কিছু বলা সম্ভব নয়।"