লক্ষ্মীপুরের রায়পুর উপজেলার সোলাখালী ব্রিজ থেকে চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ উপজেলার আলোনিয়া পর্যন্ত প্রায় চার কিলোমিটার সড়ক ২২ বছর ধরে বেহাল অবস্থায় পড়ে আছে। দীর্ঘদিন ধরে সড়কটির বেশির ভাগ অংশ কাঁচা থাকায় বর্ষাকালে কাদা ও জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। বড় বড় গর্তে পানি জমে যানবাহন চলাচল প্রায় বন্ধ হয়ে যায়। বিকল্প সড়ক না থাকায় বেড়িবাঁধ এলাকার প্রায় দেড় লাখ মানুষকে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ১৯৯৬ ও ২০০৩ সালে সড়কটির কিছু অংশ পাকা করা হয়। ২০০৩ সালের শেষ দিকে চাঁদপুর এলজিইডির উদ্যোগে ফরিদগঞ্জ উপজেলার চরদুখিয়া ইউনিয়নের আলোনিয়া গ্রামের প্রায় তিন কিলোমিটার অংশে সড়কের কিছু জায়গা পাকা করা হলেও রায়পুর অংশের প্রায় দেড় কিলোমিটারসহ বেশ কিছু অংশ কাঁচাই থেকে যায়। ২০১৬ সালে ফরিদগঞ্জের সাবেক সংসদ সদস্য মরহুম শামসুল হক ভূঁইয়ার উদ্যোগে সড়কটির সংস্কারকাজ শুরু হয়েছিল। তবে নিম্নমানের কাজের অভিযোগে স্থানীয়দের প্রতিবাদের মধ্যে তৎকালীন এক প্রকৌশলীকে মারধরের ঘটনা ঘটে বলে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা জানান। এরপর থেকে সড়কটির আর কোনো উন্নয়ন হয়নি। সরেজমিনে রায়পুর উপজেলার ১০ নম্বর ইউনিয়নের নাপিতের চর ও সোলাখালী ব্রিজ এলাকায় দেখা যায়, সড়কের বিভিন্ন অংশে বড় বড় গর্ত সৃষ্টি হয়েছে। কোথাও কোথাও জমে আছে কাদা-পানি। বৃষ্টি হলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে পড়ে। এতে শিশু, বয়স্ক ও অসুস্থ রোগীদের চলাচলে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। পাশাপাশি উৎপাদিত কৃষিপণ্য পরিবহনেও সমস্যায় পড়ছেন কৃষকেরা। স্থানীয় সমাজসেবক তানভীর পাটোয়ারী বলেন, রায়পুর ও ফরিদগঞ্জ উপজেলার সীমান্তবর্তী হওয়ায় সড়কটির উন্নয়ন দীর্ঘদিন ধরে আটকে আছে। ২২ বছর ধরে রাস্তাটি কাঁচা পড়ে থাকায় গ্রামের মানুষ ঠিকভাবে যাতায়াত করতে পারছেন না। বর্ষাকালে কৃষিপণ্য পরিবহনেও চরম দুর্ভোগ হয়। সোলাখালী ব্রিজ এলাকার বাসিন্দা মো. মাইনুদ্দিন মৈশাল বলেন, ডাকাতিয়া নদীর পাশে বসবাস করায় তাঁরা জলোচ্ছ্বাসের ঝুঁকিতে ছিলেন। পানি উন্নয়ন বোর্ড একসময় সড়কটি উঁচু করে দেয়। ১৯৯৬ ও ২০০৩ সালে এর কিছু অংশ পাকা করা হলেও প্রায় তিন কিলোমিটার সড়ক এখনো কাঁচা। এতে শিশু ও বয়স্কদের সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়তে হয়। সিএনজি অটোরিকশাচালক সজল হোসেন ও মহিউদ্দিন বলেন, কাঁচা অংশে প্রায় তিন কিলোমিটার পথ অনেক সময় গাড়ি ঠেলে পার হতে হয়। অতিরিক্ত কাদা থাকলে গাড়ি ঠেলেও নেওয়া সম্ভব হয় না। এতে সময় ও আয়—দুই দিক থেকেই ক্ষতির মুখে পড়ছেন তাঁরা। রায়পুরের ১০ নম্বর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সফিউল আজম সুমন চৌধুরী ও ফরিদগঞ্জের চরদুখিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মাহমুদুল হাসান মিরাজ বলেন, সোলাখালী ব্রিজ থেকে চৌরাস্তা বাজার, আলীগঞ্জ, ইসলাম বাজার হয়ে পূর্ব চরদুখিয়া পর্যন্ত প্রায় চার কিলোমিটার সড়ক দীর্ঘদিন ধরে বেহাল। এ পথে চারটি প্রাথমিক বিদ্যালয়, একটি ফাজিল মাদ্রাসা ও একটি উচ্চবিদ্যালয়ের শত শত শিক্ষার্থী চলাচল করে। পাশাপাশি চৌরাস্তা, ইসলামগঞ্জ ও বিরামপুর বাজারের মানুষও এই সড়ক ব্যবহার করেন। ফলে প্রায় দেড় লাখ মানুষকে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের দাবি, সড়কটি দ্রুত পাকা করা হলে দুই উপজেলার সীমান্তবর্তী এলাকার মানুষের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ কমবে। একই সঙ্গে কৃষিপণ্য পরিবহনসহ স্থানীয় যোগাযোগব্যবস্থাও সহজ হবে। এ বিষয়ে চাঁদপুর এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী মো. নুরুজ্জামান ও রায়পুরের প্রকৌশলী কামরুল ইসলাম সিদ্দিক বলেন, তাঁরা সম্প্রতি দায়িত্ব নিয়েছেন। দুই উপজেলার সীমান্তবর্তী ওই কাঁচা সড়কটির বিষয়ে খোঁজখবর নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।