প্রকাশ : ... | ... | ...

রায়পুরে গৃহবধূর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার, পরিবারের দাবি হত্যা


সংযুক্ত ছবি

লক্ষ্মীপুরের রায়পুর উপজেলায় তানিয়া আক্তার (২৬) নামে এক গৃহবধূর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। সোমবার (৩ আগস্ট) বিকেলে উপজেলার বামনী ইউনিয়নের কলাকোপা গ্রামের নোয়া বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় নিহতের সৎ শাশুড়ি রুবিনা বেগমকে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। পুলিশ জানায়, নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে সোমবার রাত ১০টার দিকে ময়নাতদন্তের জন্য লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়। পরে নিহতের স্বামী ইসমাইল হোসেন থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। নিহতের স্বজন ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় ১৩ বছর আগে কেরোয়া গ্রামের সোলায়মান মিয়ার মেয়ে তানিয়া আক্তারের সঙ্গে বামনী ইউনিয়নের ভুইয়ারহাট এলাকার জবিউল্লাহর ছেলে ইসমাইল হোসেনের বিয়ে হয়। তাদের সংসারে ১৩ বছর বয়সী একটি ছেলে রয়েছে। পরিবারের দাবি, বিভিন্ন সময় তানিয়াকে নানা অজুহাতে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করা হতো। রোববার রাতে তানিয়ার সঙ্গে তার সৎ শাশুড়ির কথা-কাটাকাটি হয়। স্বজনদের অভিযোগ, সোমবার সকালে স্বামী বাড়িতে না থাকার সুযোগে তানিয়াকে মারধর করে হত্যা করা হয়। পরে ঘটনাটি আত্মহত্যা বলে প্রচার করতে মরদেহ ঘরের আড়ার সঙ্গে ওড়না দিয়ে ঝুলিয়ে রাখার চেষ্টা করা হয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে। ঘটনার পর অভিযুক্ত রুবিনা বেগম পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে স্থানীয়রা তাকে আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এ সময় প্রকৃত ঘটনা আড়াল করার অভিযোগ তুলে উত্তেজিত গ্রামবাসী কিছু সময়ের জন্য পুলিশকে অবরুদ্ধ করে রাখে। পরে অতিরিক্ত পুলিশ ও ডিবির সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন এবং রুবিনা বেগমকে থানা হেফাজতে নেওয়া হয়। নিহতের মা আনোয়ারা বেগম বলেন, “আমার মেয়েকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। আমি এ ঘটনার দৃষ্টান্তমূলক বিচার এবং অভিযুক্তদের সর্বোচ্চ শাস্তি চাই।” নিহতের স্বামী ইসমাইল হোসেন বলেন, “আমার স্ত্রীর শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। আমি এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার চাই।” নিহতের একমাত্র প্রতিবন্ধী সন্তানও অভিযোগ করে, তার দাদি তার মাকে মারধর করেন এবং পরে মরদেহ ঝুলিয়ে রাখার চেষ্টা করেন। স্থানীয় ইউপি সদস্য আলমগীর হোসেন বলেন, “আমরা নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।” রায়পুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নিজাম উদ্দিন ভূঁইয়া বলেন, “নিহত গৃহবধূর মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। আটক শাশুড়িকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। নিহতের স্বামী একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনসহ তদন্তের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”