প্রকাশ : ... | ... | ...

রায়পুরের চরাঞ্চলে ঝরে পড়া রোধে ৭০০ শিক্ষার্থীকে বিনামূল্যে স্কুল ড্রেস বিতরণ


সংযুক্ত ছবি

শিক্ষা থেকে ঝরে পড়া রোধ ও বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের নিয়মিত উপস্থিতি নিশ্চিত করতে লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে মেঘনার চরাঞ্চলের কয়েকটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৭০০ অসহায় ও দরিদ্র শিক্ষার্থীর মাঝে বিনামূল্যে স্কুল ড্রেস ও ক্রীড়া সামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) দুপুরে চরপাগলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে শিক্ষার্থীদের হাতে স্কুল ড্রেস ও সামগ্রী তুলে দেন রায়পুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মেহেদী হাসান কাউছার। এ সময় শিক্ষা কর্মকর্তা মঈনুল হোসেন, সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা ও চারটি বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকরা উপস্থিত ছিলেন। জানা গেছে, চরাঞ্চলের বিদ্যালয়গুলোতে মূলত শ্রমজীবী ও নিম্নআয়ের পরিবারের সন্তানরা পড়াশোনা করে। অনেক শিক্ষার্থী পড়াশোনার পাশাপাশি পরিবারের আর্থিক সহায়তায় বিভিন্ন কাজে যুক্ত। কেউ চা বিক্রি করে, আবার কেউ দিনমজুরি করে পরিবারের জীবিকা নির্বাহে সহযোগিতা করে। আর্থিক সংকটের কারণে অনেক শিক্ষার্থীর স্কুল ড্রেস তৈরি করার সামর্থ্য ছিল না। ফলে তারা বিদ্যালয়ে অনিয়মিত হয়ে পড়ত। এসব শিক্ষার্থীকে বিদ্যালয়ে ফিরিয়ে আনতে শিক্ষকদের নিয়মিত বাড়ি বাড়ি যেতে হতো। সম্প্রতি বিদ্যালয় পরিদর্শনে গিয়ে ইউএনও মেহেদী হাসান কাউছার শিক্ষার্থীদের ইউনিফর্ম না থাকার বিষয়টি লক্ষ্য করেন। পরে তিনি অভিভাবকদের সঙ্গে কথা বলে শিক্ষার্থীদের স্কুল ড্রেসের ব্যবস্থা করার আশ্বাস দেন। সেই প্রতিশ্রুতির অংশ হিসেবে ৭০০ শিক্ষার্থীর মধ্যে বিনামূল্যে স্কুল ড্রেস বিতরণ করা হয়। স্কুল ড্রেস পেয়ে আনন্দ প্রকাশ করেছে শিক্ষার্থীরা। পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী আজিম, শওকত, নয়ন ও আফরোজা আক্তার বলে, ‘এতদিন আমরা ইউনিফর্ম ছাড়া স্কুলে এসেছি। আজ স্কুল ড্রেস পেয়ে খুব ভালো লাগছে। এখন থেকে নিয়মিত ক্লাসে উপস্থিত থাকব।’ একই শ্রেণির শিক্ষার্থী মাহিয়া বলে, ‘আমরা স্কুল ড্রেস পেয়ে অনেক খুশি। আগে অন্য স্কুলের শিক্ষার্থীদের ইউনিফর্ম দেখে খারাপ লাগত। এখন আমরাও ইউনিফর্ম পরে স্কুলে আসতে পারব। এতে পড়াশোনার প্রতি আমাদের আগ্রহ আরও বেড়ে গেছে।’ চারটি বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকরা বলেন, ‘কিছুদিন আগে ইউএনও আমাদের বিদ্যালয়গুলো পরিদর্শনে এসে শিক্ষার্থীদের ইউনিফর্ম না থাকার বিষয়টি দেখেন। পরে তিনি অভিভাবকদের সঙ্গে কথা বলে স্কুল ড্রেসের ব্যবস্থা করার আশ্বাস দেন। আজ সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন হয়েছে। এ উদ্যোগ শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে নিয়মিত উপস্থিতি ও পড়াশোনায় আরও উৎসাহিত করবে।’ ইউএনও মেহেদী হাসান কাউছার বলেন, ‘আর্থিক সংকটের কারণে কোনো শিশুর শিক্ষা যেন ব্যাহত না হয়, সে লক্ষ্যেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। শিশুদের শিক্ষার মূলধারায় ধরে রাখতে উপজেলা প্রশাসনের এ ধরনের কার্যক্রম ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।’