প্রকাশ : ... | ... | ...

ভয়াবহ ঝুঁকিতে রায়পুরে ইউএনওর বাসভবনসহ সরকারি ৫০টি ভবন


সংযুক্ত ছবি

লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) বাসভবন, পুরোনো আদালত ভবনসহ অন্তত ৫০টি সরকারি ও বেসরকারি ভবন চরম ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। এসব ভবনের অনেকগুলো পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হলেও সংস্কার বা অপসারণে কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। ফলে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী, শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষ প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনার ঝুঁকি নিয়ে ভবনগুলো ব্যবহার করছেন। বুধবার (২৩ জুলাই) দুপুরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ের সামনে একটি বড় দুর্ঘটনা থেকে অল্পের জন্য রক্ষা পান ইউএনও, সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও স্থানীয় কয়েকজন। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, তারা দাঁড়িয়ে কথা বলার সময় ভবনের ছাদের পলেস্তারা খসে পড়ে। এতে কেউ আহত না হলেও বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা তৈরি হয়। স্থানীয় সূত্র জানায়, দীর্ঘদিন ধরে এসব ভবনের বিভিন্ন স্থানে পলেস্তারা খসে পড়ছে। এর আগেও মাথায় পলেস্তারা পড়ে আহত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। ভবনগুলো যে কোনো সময় ধসে প্রাণহানির আশঙ্কা রয়েছে। উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, উপজেলা পরিষদ চত্বরে ইউএনওর বাসভবন ও কার্যালয়, খাদ্য, পিআইও, মহিলা বিষয়ক, সমবায়, পরিসংখ্যান, যুব উন্নয়ন, মৎস্য, আইসিটি, হিসাবরক্ষণ, এলজিইডি, পল্লী উন্নয়ন কার্যালয়, উপজেলা চেয়ারম্যানের কার্যালয় এবং অফিসার্স ক্লাব ভবনসহ একাধিক স্থাপনা ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত। এ ছাড়া ইউএনও কার্যালয়ের পেছনের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আবাসিক ভবন, ছয়টি সরকারি কোয়ার্টার, আদর্শ শিশু নিকেতন স্কুল ভবন, পুরোনো আদালত ভবনে বন বিভাগ, পল্লী সঞ্চয় ব্যাংক ও আনসার-ভিডিপির কার্যালয়সহ অন্তত ১৪টি ভবন অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ বলে উপজেলা প্রশাসনের পূর্ববর্তী তালিকায় উল্লেখ রয়েছে। পৌরসভা সূত্রে জানা গেছে, প্রথম শ্রেণির পৌর ভবন, ১২ তলা গাজি কমপ্লেক্স, এলএম পাইলট মডেল উচ্চ বিদ্যালয় এবং কেরোয়া ভূমি অফিস ভবনও ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হলেও এসব ভবনে এখনো নিয়মিত কার্যক্রম চলছে। সরেজমিনে দেখা গেছে, শহীদ মিনার সংলগ্ন পুরোনো আদালত ভবন ও উপজেলা পরিষদের ট্রেজারি শাখার ভবন পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হলেও সেখানে নিয়মিত অফিস কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। অন্যদিকে রায়পুর-লক্ষ্মীপুর আঞ্চলিক মহাসড়কের পাশে অবস্থিত মৎস্য প্রজনন ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তাদের কার্যালয়সহ ১২টি আবাসিক কোয়ার্টারও দীর্ঘদিন ধরে জরাজীর্ণ অবস্থায় পড়ে রয়েছে। স্থানীয় ব্যবসায়ীদের দাবি, থানার উত্তর পাশে অবস্থিত ১২ তলা গাজি কমপ্লেক্সটি হেলে পড়েছে এবং অগ্নিঝুঁকিতেও রয়েছে। ভবনটিতে প্রায় ৪০টি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও ৫০টি পরিবার বসবাস করছে। যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা তাদের। গাজি কমপ্লেক্স ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি আরিফ হোসেন বলেন, "প্রায় ৩০ বছর আগে নানা অনিয়মের মধ্যে ভবনটি নির্মাণ করা হয়। ভবনটি হেলে পড়েছে। ফায়ার সার্ভিসও এটিকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করেছে।" এ ছাড়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের অফিস ও রেস্ট হাউস, পোস্ট অফিস সংলগ্ন সাতটি আবাসিক ভবন, টিসি সড়কের পাঁচটি কোয়ার্টার, হাজিমারা ও হায়দরগঞ্জ পুলিশ ফাঁড়ি, মৎস্য বিভাগের রেস্ট হাউসসহ আরও বেশ কয়েকটি সরকারি ভবন কাগজে-কলমে পরিত্যক্ত হলেও সেখানে গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র সংরক্ষণ এবং অফিস কার্যক্রম চলছে। শহরের পুরোনো বাস টার্মিনাল ভবন, ৫০ শয্যা সরকারি হাসপাতালের চারটি আবাসিক কোয়ার্টারসহ বিভিন্ন সরকারি স্থাপনাও দীর্ঘদিন ধরে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। লক্ষ্মীপুরের জেলা প্রশাসক এস এম মেহেদী হাসান বলেন, "ঝুঁকিপূর্ণ ভবনগুলো চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রায় ৭ কোটি টাকা ব্যয়ে রায়পুর উপজেলা পরিষদের নতুন ভবন নির্মাণের প্রস্তাব মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। অনুমোদন পেলে দ্রুত টেন্ডার প্রক্রিয়া শুরু হবে। একই সঙ্গে জেলার পাঁচটি উপজেলায় ঝুঁকিপূর্ণ ভবনের তালিকা প্রস্তুতের নির্দেশ দেওয়া হবে।" রায়পুর পৌরসভার প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মেহেদী হাসান কাউছার বলেন, "উপজেলা পরিষদ চত্বরে প্রায় ২০ বছর ধরে ভবনগুলো ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। নতুন ভবন নির্মাণের জন্য বরাদ্দ চেয়ে ডিও লেটার পাঠানো হয়েছে। তবে জমি-সংক্রান্ত মামলা কারণে প্রকল্প বাস্তবায়ন বিলম্বিত হচ্ছে। বরাদ্দের অর্থ যেন ফেরত না যায়, সে জন্য প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।"